হাটে সুস্থ ও রোগমুক্ত গবাদিপশু চেনার সহজ ১০টি উপায়
কুরবানির হাটে প্রতিনিয়ত প্রচুর পশুর আমদানি হয়। তবে অসৎ ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম ইনজেকশন বা হরমোন প্রয়োগ করে অসুস্থ পশুকে অতিরিক্ত মোটাতাজা করে সাজিয়ে তোলেন। হাটে গিয়ে প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ ও রোগমুক্ত গরু চেনার ১০টি মোক্ষম উপায় জেনে রাখলে আপনি খুব সহজেই সঠিক ও খাঁটি পশু বেছে নিতে পারবেন।
সুস্থ গরু চেনার ১০টি মোক্ষম লক্ষণ:
- সক্রিয়তা ও চঞ্চলতা: সুস্থ গরু সবসময় চঞ্চল থাকে এবং চারপাশের প্রতি মনোযোগ দেয়। কাছে গেলে সতর্ক ও সামান্য ভয় পেয়ে নড়াচড়া করবে।
- খাদ্য গ্রহণ: সুস্থ পশুর মুখে সবসময় লালা থাকে এবং জাবর কাটে। খড় বা ঘাস দিলে নিজে মুখে তুলে চিবানোর চেষ্টা করবে।
- নাকের ওপরের নরম অংশ (Muzzle): একটি সুস্থ গরুর নাকের ডগা বা অগ্রভাগ কিছুটা ভিজা ও বিন্দু বিন্দু পানির মতো ঘামযুক্ত থাকবে। শুকনো বা রুক্ষ নাক অসুস্থতার বড় লক্ষণ।
- চোখের উজ্জ্বলতা: সুস্থ গরুর চোখ সবসময় উজ্জ্বল ও পরিষ্কার দেখাবে। চোখের কোণ লাল বা পুঁজ জমে থাকবে না।
- চামড়ার উজ্জ্বলতা: প্রাকৃতিকভাবে বড় হওয়া গরুর গায়ের পশম মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখাবে। চামড়ায় আলতো চাপ দিলে চামড়া আবার দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
- গোবরের প্রকৃতি: হাটে গরুর গোবর যদি বেশি পাতলা বা পাতলা পায়খানা হয়, তবে বুঝতে হবে গরুর পেটে বা পরিপাকতন্ত্রে সমস্যা রয়েছে।
- শারীরিক গঠন ও কুঁজ: সুস্থ ষাঁড়ের কুঁজ থাকবে শক্ত ও চমৎকারভাবে উঁচু।
- পা ও ক্ষুর: সুস্থ গরুর ক্ষুর মসৃণ ও জোড়া সমান হবে। হাঁটার সময় পা খুঁড়িয়ে চলবে না বা দুর্বলতা দেখাবে না।
- শরীরের তাপমাত্রা: গরুর পিঠে ও কানে স্পর্শ করলে খুব বেশি উত্তাপ বা ঠান্ডা অনুভূত হবে না। গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকবে।
- কৃত্রিম মোটা গরু সনাক্তকরণ: অতিরিক্ত ইনজেকশন ও স্টেরয়েড দেওয়া গরুর শরীর অতিরিক্ত ফোলা ফোলা দেখাবে। গায়ে হাত দিয়ে আলতো চাপ দিলে যদি গর্ত হয়ে যায় এবং চামড়া সহজে স্বাভাবিক না হয়, তবে বুঝতে হবে তা কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা।
বিশেষ সতর্কবার্তা:
কৃত্রিম স্টেরয়েড দেওয়া গরু খুব শান্ত ও নিস্তেজ থাকে, ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারে না এবং কিছুক্ষণ পর পর শুয়ে পড়ে। এই ধরনের পশু কুরবানি করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
উপরোক্ত লক্ষণগুলো দেখে সতর্কতার সাথে কুরবানির পশুর সুস্থতা যাচাই করে কিনুন। আপনার কুরবানি হোক সফল ও ঝামেলামুক্ত।